বগুড়ার ধুনট উপজেলায় এলজিইডির সরকারি রাস্তার দুই পাশে থাকা প্রায় ৮০টি গাছ কেটে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গাছগুলো বিক্রি করে তারা প্রায় ৭৫ হাজার টাকা নিয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে অভিযুক্তরা বলছেন, গাছগুলো সরকারি জমিতে নয়, তাদের নিজস্ব জমিতে তাদেরই রোপণ করা।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি পশ্চিমপাড়া এলাকায়। অভিযুক্তরা হলেন ওই গ্রামের মৃত আজিজুর রহমান মন্ডলের ছেলে শাহেদ আলী মন্ডল, মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে দুলাল সরকার এবং আব্দুস সামাদের ছেলে গোলাম হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে এলজিইডির রাস্তার দুই পাশে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৮০টি গাছ কেটে স্থানীয় এক কাঠ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরে গাছগুলো বিক্রি করে অভিযুক্তরা প্রায় ৭৫ হাজার টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ঘটনাটি প্রশাসনের নজরে আসে। খবর পেয়ে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে কাটা গাছগুলো জব্দ করা হয়।
এলাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহাদাৎ হোসেন পিটুন বলেন, সরকারি রাস্তার পাশের গাছ অবৈধভাবে কাটার খবর পেয়ে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে গাছগুলো জব্দ করা হয়েছে। বর্তমানে গাছগুলো ইউনিয়ন পরিষদে রাখা হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্তরা দাবি করেন, এলজিইডির রাস্তার পাশে তাদের নিজস্ব জমি রয়েছে। ওই জমিতে তারাই গাছগুলো রোপণ করেছিলেন। নিজেদের রোপণ করা গাছ হওয়ায় সেগুলো কাটার অধিকার তাদের রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি রাস্তার সম্পত্তির অংশ হয়ে থাকলে অনুমতি ছাড়া গাছ কাটা ও বিক্রি করা অনিয়মের মধ্যে পড়ে। তাই প্রশাসনের তদন্তের মাধ্যমে গাছগুলোর মালিকানা ও কাটার বৈধতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। তদন্তের পরই গাছগুলো সরকারি সম্পত্তির অংশ কি না এবং বিক্রির ঘটনায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হবে।