Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / ঢাকা বিভাগ / সারাদেশ / ঢাকা / ইস্ট বেকারের পণ্য বিপণনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার - Chief TV

ইস্ট বেকারের পণ্য বিপণনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার - Chief TV

2026-10-19  ডেস্ক রিপোর্ট  32 views
ইস্ট বেকারের পণ্য বিপণনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার - Chief TV

প্রিজারভেটিভের মাত্রা নিয়ে বিতর্কের পর শর্তসাপেক্ষে ইস্ট বেকারের নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যপণ্যের বিপণনে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পণ্যগুলোর বিপণন আবার চালু করা হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) জানিয়েছে, ইস্ট বেকারের ব্রেডের নমুনা পরীক্ষা করে প্রিজারভেটিভসহ বিভিন্ন উপাদানের মাত্রা নির্ধারিত সীমার মধ্যে পাওয়া গেছে।

ঢাকার জেলা খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম জানান, প্রিজারভেটিভসহ অন্যান্য উপাদানের মাত্রা অনুমোদিত সীমার মধ্যে রাখা এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ করায় ইস্ট বেকারের পণ্য বিপণনে এখন বাধা নেই।

এর আগে ‘মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ’ থাকার অভিযোগে গত জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইস্ট বেকারের দুটি প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট ব্যাচের দুটি খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার এবং বিপণন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। পণ্য দুটি হলো ইস্ট কেক ইন্টারন্যাশনাল ফুড লিমিটেডের ‘ইস্ট কেক পুর পিঠা জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট)’ এবং ইস্ট জিবাই ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ‘ইস্ট বেকার স্লাইস ব্রেড মিল্ক জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট)’।

বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ইস্ট বেকার বিভিন্ন স্বীকৃত পরীক্ষাগারে পণ্যের নমুনা পরীক্ষা করায়। পরে পরীক্ষার ফলাফল যুক্ত করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

বিএসটিআইয়ের পরিচালক (সিএম) আলাউদ্দিন হোসেন বলেন, ঢাকা ও আশপাশের এলাকা থেকে ইস্ট বেকারের ব্রেডের চারটি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় ক্যালসিয়াম প্রোপায়োনেট নামের প্রিজারভেটিভের মাত্রা নির্ধারিত নিরাপদ সীমার অনেক নিচে পাওয়া গেছে।

তিনি জানান, ব্রেডে ক্যালসিয়াম প্রোপায়োনেটের নিরাপদ মাত্রা প্রতি কেজিতে পাঁচ গ্রাম। ইস্ট বেকারের চারটি নমুনায় যথাক্রমে ২ দশমিক ৬২, ২ দশমিক ৫৩, ২ দশমিক ৯৯ ও ২ দশমিক ৬৭ গ্রাম পাওয়া গেছে। তাঁর ভাষ্য, চারটি নমুনার প্রতিটিতেই প্রিজারভেটিভের মাত্রা নির্ধারিত সীমার মধ্যে ছিল।

আলাউদ্দিন হোসেন বলেন, পরীক্ষার ফল অনুযায়ী নমুনাগুলোতে সংশ্লিষ্ট উপাদানের মাত্রা নির্ধারিত মানের মধ্যে রয়েছে এবং সেগুলো গ্রহণযোগ্য সীমার মধ্যে পাওয়া গেছে।

ঢাকার জেলা খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশে নির্দিষ্ট ব্যাচের পণ্য প্রত্যাহার এবং বিপণন বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। পরে প্রতিষ্ঠানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শর্তসাপেক্ষে বিপণন বন্ধের নির্দেশ তুলে নেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ১১ আগস্ট এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ইস্ট বেকার এক বিবৃতিতে জানায়, ভোক্তার নিরাপত্তা ও পণ্যের মান যাচাইয়ে তাদের ব্রেডের নমুনা বিএসটিআই, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের খাদ্যবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট এবং ওয়াফেন রিসার্চ ল্যাবরেটরি লিমিটেডে পরীক্ষা করানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, পরীক্ষায় ক্যালসিয়াম প্রোপায়োনেটসহ বিভিন্ন প্রিজারভেটিভ ও গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের মাত্রা নির্ধারিত সীমার মধ্যে পাওয়া গেছে।

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, বিএসটিআই ও ওয়াফেন রিসার্চ ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় পণ্যটিতে পটাশিয়াম ব্রোমেট শনাক্ত হয়নি। এ ছাড়া খাদ্যবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটে পণ্যের সংরক্ষণকাল ও জীবাণুগত নিরাপত্তা যাচাইয়ে ৩০ দিনের পরীক্ষা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ের ফলাফল গ্রহণযোগ্য ছিল এবং পরীক্ষিত সময়জুড়ে সালমোনেলা জীবাণু পাওয়া যায়নি।

ইস্ট বেকার জানিয়েছে, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, খাদ্যনিরাপত্তা ও উৎপাদনপ্রক্রিয়ার গুণগত মান বজায় রাখতে তারা কাজ করে যাবে। পাশাপাশি ভোক্তা, পরিবেশক ও ডিলারদের যাচাইযোগ্য তথ্যের ওপর আস্থা রাখার এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।


Share: