সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে শুক্রবার বা জুমার দিন মুসলমানদের কাছে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এ দিনের গুরুত্ব ও ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। মুসলমানদের কাছে দিনটি সাপ্তাহিক ঈদ হিসেবেও পরিচিত।
জুমার নামাজ আদায়ের পাশাপাশি এ দিনে বিভিন্ন ইবাদত ও নেক আমলের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। হাদিসে জুমার দিনে দোয়া কবুলের একটি বিশেষ সময়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
আবু লুবাবা বিন আবদুল মুনজির (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) জুমার দিনের পাঁচটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। সেগুলো হলো—এ দিনে আল্লাহ তাআলা আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন, তাঁকে পৃথিবীতে অবতরণ করিয়েছেন এবং তাঁর মৃত্যু দিয়েছেন। এ দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো বান্দা আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করলে তিনি তা কবুল করেন, যদি সে হারাম কোনো কিছুর প্রার্থনা না করে। এ ছাড়া এ দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।
(ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৮৯৫)
সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে যথাসাধ্য পবিত্রতা অর্জন করে, তেল ও সুগন্ধি ব্যবহার করে মসজিদে যায়, মুসল্লিদের ডিঙিয়ে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করে না এবং নির্ধারিত পরিমাণ নামাজ আদায় করে, এরপর ইমাম খুতবা দেওয়া শুরু করলে নীরব থাকে, তার দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দেন।
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮৩)
তাই জুমার দিনের ইবাদত শুধু নামাজ আদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এ দিনে নামাজের পাশাপাশি দোয়া, জিকির, দরুদ পাঠ ও কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে নেক আমলের সুযোগ রয়েছে। সুন্নত ও শরিয়তের বিধান মেনে চলার মধ্য দিয়ে একজন মুসলিম দিনটির বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলত অর্জনের চেষ্টা করতে পারেন।