পুরুষের বয়স বাড়লেও সন্তান নেওয়ার সক্ষমতা সারাজীবন একই থাকে—এমন ধারণা প্রচলিত থাকলেও বাস্তবে বয়সের সঙ্গে পুরুষের প্রজননক্ষমতাতেও পরিবর্তন আসে। নারীদের উর্বরতা কমার বিষয়টি বেশি আলোচিত হলেও পুরুষের বয়স, শুক্রাণুর মান ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত ৪০ থেকে ৪৫ বছর বয়সের পর পুরুষের উর্বরতায় বয়সজনিত পরিবর্তন তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা দিতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে এই বয়স পার হলেই সন্তান নেওয়ার সক্ষমতা শেষ হয়ে যায়। অনেক পুরুষই পরবর্তী বয়সেও বাবা হন। বয়স বাড়ার সঙ্গে শুধু গর্ভধারণে সময় কিছুটা বাড়তে পারে এবং শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণগত মানে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
বয়ঃসন্ধির পর থেকে পুরুষের শরীরে নিয়মিত শুক্রাণু উৎপন্ন হয়। তবে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে শুক্রাণুর সংখ্যা, চলনক্ষমতা ও গঠনে পরিবর্তন আসতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে শুক্রাণুর জিনগত উপাদানেও বয়সজনিত পরিবর্তনের প্রবণতা দেখা যায়, যা প্রজননস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
তবে ৪০ বা ৪৫ বছর বয়সকে উর্বরতার শেষ সীমা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। একজন পুরুষের সন্তান নেওয়ার সক্ষমতা নির্ভর করে বয়সের পাশাপাশি সামগ্রিক স্বাস্থ্য, জীবনযাপন, শুক্রাণুর মান এবং বিভিন্ন শারীরিক অবস্থার ওপর।
এ ক্ষেত্রে যৌনক্ষমতা ও উর্বরতাকে এক করে দেখাও ভুল। একজন পুরুষের যৌন ইচ্ছা ও সক্ষমতা স্বাভাবিক থাকলেও শুক্রাণুর সংখ্যা, চলনক্ষমতা বা গঠনে সমস্যা থাকলে সন্তান ধারণে জটিলতা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও গর্ভধারণ না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা যেতে পারে।
বয়সের পাশাপাশি জীবনযাপনও প্রজননস্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে। ধূমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ, অতিরিক্ত ওজন এবং কিছু শারীরিক সমস্যা শুক্রাণুর মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা, পর্যাপ্ত ঘুম ও পুষ্টিকর খাবারের অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ।
সন্তান ধারণে সমস্যা হলে শুধু নারীর বয়স বা স্বাস্থ্যকে দায়ী না করে নারী ও পুরুষ—উভয়ের প্রজননস্বাস্থ্য বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনায় বয়সের পাশাপাশি উভয়ের সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।