নীলফামারীর সৈয়দপুরে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর রাসেল নামে এক রিকশাচালককে রংপুর থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বজনরা রংপুর শহরের ধাপ এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করেন। সেখানে রাস্তার পাশে একটি ড্রেনের কাছে অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন তিনি।
রাসেল সৈয়দপুর শহরের নিয়ামতপুর সরকারপাড়া মসজিদ বায়তুল্লাহ সংলগ্ন এলাকার রিকশাচালক মহুবার রহমানের ছেলে। তিনি তিন সন্তানের জনক। গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে বাড়ির সংস্কারের জন্য ইট কিনতে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন রাসেল।
রাসেলের বাবা মহুবার রহমান জানান, পুরোনো রিকশার ব্যাটারিতে সমস্যা হওয়ায় সেটি বিক্রি করে নতুন রিকশা কেনা এবং বাড়িতে গরু রাখার ঘর তৈরির পরিকল্পনা করছিলেন তার ছেলে। এ জন্য গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) একটি এনজিও থেকে ৬০ হাজার টাকা ঋণ নেওয়া হয়। ঘটনার দিন ইট কেনার জন্য প্রায় ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন রাসেল। এর মধ্যে মোবাইলে একটি কল আসার পর দ্রুত বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তিনি। নিজের মোবাইল ফোনটিও বাড়িতে রেখে যান।
এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও রাসেল বাড়িতে না ফেরায় স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। সন্ধান না পেয়ে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তারা। পরিবারের দাবি, সে সময় পুলিশ বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে রাসেল ইচ্ছা করে আত্মগোপন করেছেন বলে ধারণা করেছিল।
রাসেল সুস্থ হওয়ার পর স্বজনদের কাছে দাবি করেছেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে ইট কিনতে যাওয়ার পথে বাস টার্মিনালসংলগ্ন আদানি মোড়ে প্রশাসনের পরিচয় দেওয়া তিন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে তার পথরোধ করেন। তাদের মধ্যে দুজন তাকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যান বলে দাবি তার। পরে সৈয়দপুর-রংপুর সড়কের ওকরাবাড়ি এলাকায় নিয়ে তার কাছে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাসেলের দাবি, এরপর তাকে মারধর করে চেতনানাশক মেশানো খাবার খাওয়ানো হয়। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর কীভাবে রংপুরে পৌঁছেছেন, সে বিষয়ে কিছুই মনে নেই বলে জানান তিনি।
রাসেল বলেন, অভিযুক্তদের দেখলে তিনি তাদের শনাক্ত করতে পারবেন। তার ধারণা, ঘটনাটির সঙ্গে সৈয়দপুরের পরিচিত কেউ জড়িত থাকতে পারেন।
এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজের পর পুলিশ বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করেনি বলেও অভিযোগ করেছে পরিবার।
তবে রাসেলকে কারা তুলে নিয়ে গিয়েছিল, কেন এ ঘটনা ঘটেছে এবং তার কাছ থেকে ঠিক কত টাকা নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।