Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / খুলনা বিভাগ / সারাদেশ / বাগেরহাট / পশ্চিম সুন্দরবনে বন অপরাধে দুই মাসে ৮৯ মামলা - Chief TV

পশ্চিম সুন্দরবনে বন অপরাধে দুই মাসে ৮৯ মামলা - Chief TV

2026-08-28  ম. ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ  50 views
পশ্চিম সুন্দরবনে বন অপরাধে দুই মাসে ৮৯ মামলা - Chief TV

পশ্চিম সুন্দরবনের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে বন অপরাধ দমনে গত দুই মাসে ১০৮টি বিশেষ অভিযান চালিয়েছে বন বিভাগ। এসব অভিযানে ৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে বন অপরাধের অভিযোগে দায়ের হয়েছে ৮৯টি মামলা। অভিযানে হরিণের মাংস, বিপুল পরিমাণ মাছ ও কাঁকড়া, বিষ, শিকারি সরঞ্জাম, নৌকা ও ট্রলারসহ বিভিন্ন অবৈধ উপকরণ জব্দ করা হয়েছে।

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কঠোর নজরদারির অংশ হিসেবে গত জুন ও জুলাই মাসে পশ্চিম বন বিভাগের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দায়ের হওয়া ৮৯টি মামলার মধ্যে ১৯টি পিওআর, ৬৯টি ইউডিওআর এবং একটি সিওআর মামলা রয়েছে। অবৈধভাবে বনে প্রবেশ, বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার এবং বন্যপ্রাণী নিধনের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে এসব অভিযান চালানো হয়েছে।

অভিযানে জব্দ করা হয়েছে ৩০ কেজি হরিণের মাংস, প্রায় দেড় হাজার মিটার হরিণ ধরার মালা ফাঁদ, ৮৯টি নৌকা ও তিনটি ট্রলার। এছাড়া ১ হাজার ২০০ কেজি কাঁকড়া, ৬১০ কেজি চিংড়ি, ১৮৫ কেজি সাদা মাছ, ৪৭ বোতল বিষ এবং ৫৩টি মাছ ধরার জালও জব্দ করা হয়।

বিশেষ করে বিপুল পরিমাণ হরিণ ধরার ফাঁদ উদ্ধারের ঘটনায় সুন্দরবনে পরিকল্পিতভাবে বন্যপ্রাণী শিকারের বিষয়টি সামনে এসেছে। পাশাপাশি বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনাও উদ্বেগ তৈরি করেছে। পরিবেশসংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সুন্দরবনের জলজ প্রাণীর প্রজনন, খাদ্যশৃঙ্খল ও সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর অভিযানের সংখ্যা সামান্য কমলেও মামলার সংখ্যা বেড়েছে। গত বছর ১১০টি অভিযানে ৪৭ জনকে আটক করে ৮২টি মামলা করা হয়েছিল। সেখানে চলতি বছর ১০৮টি অভিযানে ৪৬ জন আটক এবং ৮৯টি মামলা হয়েছে।

পশ্চিম সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এজেডএম হাছানুর রহমান জানান, নিয়মিত টহল ও অভিযানের ফলে সামগ্রিকভাবে বন অপরাধ কমছে। সুন্দরবনে অবৈধ প্রবেশ ও বন্যপ্রাণী শিকার ঠেকাতে বনরক্ষীরা সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে কাজ করছেন। তবে সুন্দরবনের বিশাল আয়তন ও জনবল সংকটের কারণে অপরাধীদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বন বিভাগকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বন অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান ও আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি অপরাধীদের নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আরও কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব।


Share: