রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইয়ের সময় রিকশা থেকে পড়ে স্কুলশিক্ষিকা রনজিনা পারভীনের মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেই নিহত শিক্ষিকার স্বামী আবদুল মতিনের বর্ণনায় উঠে এসেছে সেই মর্মান্তিক ঘটনার হৃদয়বিদারক চিত্র।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোছা. রনজিনা পারভীন (৫৫) বগুড়ার গাবতলী উপজেলার দড়ি সোনাকানিয়া গ্রামের ময়েজ উদ্দিনের মেয়ে। তিনি বাগবাড়ি বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তার স্বামী আবদুল মতিন বগুড়া নিউ মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী। তাদের রাইসা নামে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া একটি মেয়ে রয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চোখের চিকিৎসার জন্য শুক্রবার রাতে স্বামীর সঙ্গে বাসে করে বগুড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন রনজিনা। শনিবার ভোরে ঢাকায় পৌঁছে তারা রিকশায় করে ফার্মগেটের খামারবাড়িতে ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যাচ্ছিলেন।
আবদুল মতিন জানান, সংসদ ভবনের ১২ নম্বর বকুলতলা গেট পার হওয়ার পর একটি মোটরসাইকেল তাদের রিকশার পাশে এসে চলতে থাকে। মোটরসাইকেলটি দুইবার রিকশার পাশে ঘষা দেয়। তিনি প্রতিবাদ করলে রিকশাচালক গতি কমিয়ে দেন। ঠিক তখনই মোটরসাইকেলে থাকা ব্যক্তি রনজিনার কাঁধে থাকা ব্যাগ ধরে জোরে টান দেন।
ছিনতাইকারী ব্যাগ নিয়ে খামারবাড়ির দিকে চলে গেলেও টানের ধাক্কায় রনজিনা রিকশা থেকে সড়কে পড়ে যান। তার মাথা সড়কে আঘাত পায়। আবদুল মতিন দ্রুত রিকশা থামিয়ে দৌড়ে গিয়ে তাকে কোলে তুলে নেন। তখন তিনি রনজিনাকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় দেখতে পান।
আবদুল মতিন বলেন, স্ত্রীর মাথার পেছন দিক থেকে রক্ত বের হয়ে তার পাঞ্জাবি ও পায়জামা ভিজে যায়। তিনি পাঞ্জাবি খুলে রনজিনার মাথার পেছনে চেপে ধরেন। পরে তাকে কোলে করে ওই রিকশাতেই শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শেরেবাংলা নগর থানার এসআই জাহিদুল আলমের করা সুরতহাল প্রতিবেদনে রনজিনার মাথার পেছনে থেঁতলানো জখম এবং নাক-মুখে রক্তের দাগ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহত শিক্ষিকার স্বামী বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
এরই মধ্যে রনজিনা পারভীনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার মূল সন্দেহভাজন মো. পনি ওরফে প্যারা পনিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২। একই সঙ্গে তার এক সহযোগীকেও গ্রেপ্তার এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রোববার বিকেল ৪টায় রাজধানীর বসিলায় র্যাব-২ সদর দপ্তরে সংবাদ ব্রিফিং করার কথা রয়েছে।