টানা পাঁচ বছরের আইনি লড়াই, পারস্পরিক ক্ষোভ আর সম্পর্কের তিক্ততা যেন মুহূর্তেই বদলে গেল ভালোবাসায়। যে আদালত চত্বরে বিচ্ছেদ আর কান্নার গল্পই বেশি দেখা যায়, সেখানেই ঘটেছে আবেগঘন এক ঘটনা। বিচারকের সামনেই ডিভোর্সের নথিপত্র ছিঁড়ে ফেলে স্বামীকে জড়িয়ে ধরেছেন স্ত্রী।
দিল্লির একটি পারিবারিক আদালতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনা এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। দীর্ঘদিনের বিরোধ ও আইনি জটিলতার পর আদালতকক্ষেই দম্পতির এমন সিদ্ধান্ত উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালে। ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছিল শিখা ও সৌরভের। তবে বিয়ের কিছুদিন পরই তাদের সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়। ছোটখাটো অশান্তি ধীরে ধীরে বড় ধরনের বিরোধে রূপ নেয়। একপর্যায়ে দুজনই আলাদা হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আদালতে ডিভোর্সের মামলা করেন।
এরপর কেটে যায় দীর্ঘ পাঁচ বছর। একের পর এক শুনানি, আইনজীবীদের সওয়াল-জবাব আর আদালতে যাতায়াত করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে দুই পরিবার। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে শিখার বাবাকেও মেয়ের ভবিষ্যৎ ও মামলার খরচ সামলাতে নিজের জীবনের বড় অংশের সঞ্চয় ব্যয় করতে হয়। এতে আর্থিক চাপের পাশাপাশি পরিবারটির ওপর তৈরি হয় তীব্র মানসিক চাপ।
তবে এত বছরের বিরোধের পর আদালতে এসে হঠাৎ বদলে যায় পরিস্থিতি। বিচ্ছেদের নথি ছিঁড়ে স্বামীকে জড়িয়ে ধরেন স্ত্রী। মুহূর্তেই যেন পাঁচ বছরের ক্ষোভ, অভিমান আর তিক্ততা পেছনে ফেলে নতুন করে একসঙ্গে থাকার বার্তা দেন তারা।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই বলছেন, আইনের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যেও শেষ পর্যন্ত মানবিকতা ও ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় হয়ে উঠতে পারে।