Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / চট্টগ্রাম বিভাগ / সারাদেশ / কক্সবাজার / উদ্ধার করা ১ লাখ পিস ইয়াবা ‘গায়েব করে দিলেন’ তিনি! - Chief TV

উদ্ধার করা ১ লাখ পিস ইয়াবা ‘গায়েব করে দিলেন’ তিনি! - Chief TV

2026-10-25  ডেস্ক রিপোর্ট  44 views
উদ্ধার করা ১ লাখ পিস ইয়াবা ‘গায়েব করে দিলেন’ তিনি! - Chief TV

কক্সবাজারের উখিয়ায় একটি অটোরিকশা থেকে দেড় লাখ পিস ইয়াবা ও একটি পিস্তল উদ্ধারের দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী। তবে উখিয়া থানা-পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি এক লাখ পিস ইয়াবা জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করে সরিয়ে ফেলা এবং পিস্তল জব্দের তথ্য গোপন রাখার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুরে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী জোড়া ব্রিজের পশ্চিম পাশে অস্থায়ী চেকপোস্টে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থামানোর সংকেত দেয় পুলিশ। এ সময় চালকসহ তিনজন পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে ছৈয়দুল বশর ওরফে ছিছিকে আটক করা হয়। অন্য দুজন পালিয়ে যান। পরে অটোরিকশার চালকের আসনের নিচে রাখা একটি সাদা বস্তা থেকে পাঁচটি কার্টনে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

তবে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, খ্যাংখালী স্টেশন পার হওয়ার পর অটোরিকশাটি থামিয়ে ছৈয়দুল বশরকে আটক করা হয়। সে সময় গাড়ি থেকে দেড় লাখ পিস ইয়াবা ও একটি নাইন এমএম পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার এক লাখ পিস জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পাশাপাশি পিস্তল উদ্ধারের বিষয়টিও পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।

এ ঘটনায় বালুখালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) কিবরিয়ার পাশাপাশি সহকারী উপপরিদর্শক সজিবুল ইসলাম ও কনস্টেবল মোহাম্মদ সুজনের নাম অভিযোগের সঙ্গে উঠে এসেছে। স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হওয়া এক লাখ পিস ইয়াবা ঘটনার রাতেই একটি মাদক কারবারি চক্রের কাছে প্রায় এক কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়। আটক ব্যক্তির পরিবারের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে পিস্তলটি জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আটক ছৈয়দুল বশর পালংখালীর আঞ্জুমানপাড়ার আব্দুস ছবুরের ছেলে এবং ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করার সুবাদে এসআই কিবরিয়ার মাদক কারবারিদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ নেওয়া এবং মাদক সরিয়ে ফেলার অভিযোগও করেছেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো যাচাইকৃত নথি পাওয়া গেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

উখিয়ায় ইয়াবা উদ্ধারের পরিমাণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে। উপজেলা ছাত্রদল নেতা মাহবুব আহমদ শাকিল ফেসবুকে এসআই কিবরিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে পোস্ট দিয়েছেন। স্থানীয় যুবক ওসমান সরওয়ারও এক লাখ পিস ইয়াবা গায়েবের অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছেন। স্থানীয় সাংবাদিক রফিক উদ্দিন উদ্ধার হওয়া ইয়াবার পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘৫০ হাজার নাকি ১ লাখ ৫০ হাজার?’ তাঁর পোস্টের মন্তব্যেও কয়েকজন দেড় লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধারের দাবি করেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এসব বক্তব্য অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করে না।

এর আগে ১৭ আগস্ট মাদকবিরোধী একটি র‍্যালিতে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন। তবে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ওই এলাকার মাদক পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় আইনজীবী অ্যাডভোকেট জসিম আজাদ।

তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে জব্দ করা ইয়াবা সরিয়ে ফেলার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি মাঠপর্যায়ে যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে বালুখালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কিবরিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। পরে হোয়াটসঅ্যাপে লিখিতভাবে অভিযোগগুলো জানিয়ে বক্তব্য চাওয়া হলেও তিনি জবাব দেননি। পরে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আগের দিন থেকে অন্তত ৫০টি ফোন পেয়েছেন। তদন্তে যা পাওয়া যায়, তা লিখতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তবে এক লাখ পিস ইয়াবা গায়েব, পিস্তল জব্দের তালিকায় না রাখা কিংবা অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, তিনি গত চার দিন ছুটিতে ছিলেন। এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হবে। তাঁকে জড়িয়ে যাঁরা প্রচার করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, পুলিশ মাদক নির্মূলের জন্য কাজ করছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. অহিদুর রহমান বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে কোনো তথ্য-উপাত্ত থাকলে তা দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর দাবি, পুলিশ অভিযান পরিচালনা করলেই এ ধরনের অভিযোগ ওঠে এবং এ কারণে উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় দায়িত্ব পালন ও অভিযান পরিচালনায় অনেক কর্মকর্তা অনাগ্রহী হয়ে পড়েন। তবে অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

উদ্ধার হওয়া ইয়াবার প্রকৃত পরিমাণ, পিস্তল উদ্ধারের অভিযোগ এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়গুলো এখনো তদন্তসাপেক্ষ। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে জব্দ তালিকা, অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যদের বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য ও অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করা জরুরি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


Share: