ঢাকার কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর মধ্যপাড়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা, মারধর, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় লিখিত পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল্লাহপুর এলাকার আরএস ৭১৭, ৯৮৩ ও ৯৮৪ নম্বর দাগের ১৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের বিরোধ চলছে। এ নিয়ে ঢাকার সিভিল জজ আদালতে ১৮১৯/২০২৬ নম্বরে একটি দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
প্রথম পক্ষের মো. সৈয়দ আলী (৫২) অভিযোগ করেন, আদালত ওই সম্পত্তিতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও গত ১৫ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে পিয়ার আলী (৩৫), রমজান আলী (২৭), জাফর আলী (৬৫), দুলাল মিয়া (৪৮), ফরিদ (৪০), ফেরদৌস (৩৫)সহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁরা ঘরবাড়িতে কোপাতে থাকেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
বাধা দিতে গেলে খোকন (৩৫), সাখাওয়াত হোসেন (৪০), সৈয়দ আলী, আজাহার আলী এবং পরিবারের দুই নারী ফাতেমা (৩৫) ও ফাহিমাকে (৩২) মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া নারীদের শ্লীলতাহানি, গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতিসাধনের অভিযোগও করেছেন সৈয়দ আলী। পরে আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় পক্ষের মো. মোজাম্মেল হোসেন (২৩) পাল্টা অভিযোগে দাবি করেন, পূর্বশত্রুতার জেরে গত ১৮ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে খোকন (৩৫), সৈয়দ (৪০), ইব্রাহিম (৩৮), আজহার (৪৩) ও রবিউল (৬০) দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের বসতবাড়িতে হামলা চালান।
তাঁর অভিযোগ, হামলাকারীরা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি করেন। এ সময় একটি আলমারি ভেঙে নগদ ৬০ হাজার টাকা ও তিন ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়া হয়। বাধা দিতে গেলে এবং চিৎকার শুনে এগিয়ে এলে তাঁর ফুফাতো ভাই দুলালকে (৪৫) ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করা হয়। পরিবারের অন্য সদস্যদেরও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজগর হোসেন জানান, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে উভয় পক্ষের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।