কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন রিনথী ও তার মা তাহমিনা বেগম হত্যাকাণ্ডের এক বছর পূর্ণ হলেও শেষ হয়নি বিচারপ্রক্রিয়া। আসামি গ্রেপ্তার এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পরও মামলার কার্যক্রম ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন রিনথী (২৩) ও তার মা তাহমিনা বেগম (৫২) গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা নগরের কালিয়াজুড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিহত হন। ঘটনার পরদিন বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত মোবারক হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার ১ নম্বর আমলি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মোবারক হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন বলে জানা যায়। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দির তথ্য অনুযায়ী, ঝাড়ফুঁকের সূত্র ধরে সুমাইয়ার পরিবারের সঙ্গে মোবারকের পরিচয় হয়েছিল। ঘটনার আগে প্রায় এক মাস ধরে তিনি ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। মামলার তদন্তে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছেন সুমাইয়ার পরিবার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তবে এক বছরেও বিচার শেষ না হওয়ায় সহপাঠী ও স্বজনদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
সুমাইয়ার সহপাঠীরা বলছেন, দীর্ঘ সময় পার হলেও মামলার দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া হতাশাজনক। তারা দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
নিহত সুমাইয়ার বড় ভাই মো. আল আমিনও দ্রুত বিচার পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন। পরিবারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সোহেল হোসাইন জানান, এখন পর্যন্ত পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। আরও চারজনের সাক্ষ্য বাকি রয়েছে। আগামী মাসের ১৭ তারিখ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।