নোয়াখালীর মাইজদী শহরের দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে মো. মোসলিম (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোসলিম লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের চরবসু গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাড়ির পাশে খেলাধুলার সময় লাঠির একটি অংশ মোসলিমের বাম চোখে লাগে। পরে তার বাবা-মা তাকে সিএনজিযোগে মাইজদীর দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যান।
পরিবারের অভিযোগ, সেখানে কর্তব্যরত প্যারামেডিকস আবুল হোসেন শিশুটির চোখে অ্যানেসথেশিয়া দেওয়ার পর সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্যারামেডিকস আবুল হোসেন। তিনি দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালকও। তার দাবি, শিশুটির চোখের ওপরের ও নিচের পাতায় স্থানীয়ভাবে ব্যবহারের অ্যানেসথেশিয়ার ড্রপ দেওয়া হয়েছিল। তার মতে, এ ধরনের অ্যানেসথেশিয়ার কারণে মৃত্যুর আশঙ্কা নেই।
নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী জানান, শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সুধারাম থানার পুলিশকে জানানো হয়েছে।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, নিহতের স্বজনেরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানান। যেহেতু ঘটনাটি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর এলাকায় ঘটেছে, তাই সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
এদিকে স্বজনদের অভিযোগের পর দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং নিহতের স্বজনদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা ও শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।