Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / জাতীয় / পদ হারাচ্ছেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির? - Chief TV

পদ হারাচ্ছেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির? - Chief TV

2026-10-28  ডেস্ক রিপোর্ট  31 views
পদ হারাচ্ছেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির? - Chief TV

‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকিরের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর আইজিপি পদে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফর শেষে দেশে ফিরলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ পদটির জন্য বিসিএস ১৫তম ব্যাচের চার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাঁরা হলেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজ, অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবিব পলাশ এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। বর্তমান আইজিপি আলী হোসেন ফকিরও একই ব্যাচের কর্মকর্তা।

আলোচনায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে কাউকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তাঁদের বাইরে অন্য কোনো কর্মকর্তার নামও বিবেচনায় আসতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অতীত কার্যক্রম, দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়োগের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হতে পারে। এরই মধ্যে চার কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত তথ্যসংবলিত নথি তলব করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আইজিপির সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক ও সরকারি পর্যায়ে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী মন্তব্যটিকে সরকারের জন্য বিব্রতকর বলে অভিহিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, দেশে ফেরার পর প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি। এ বিষয়ে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রয়েছে বলেও জানান তিনি। এসব প্রতিক্রিয়ার পর আইজিপি পদে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে বিতর্কের পর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, আইজিপি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি রূপক অর্থে ব্যবহার করেছেন। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ বোঝাতেই তিনি শব্দটি ব্যবহার করেছেন বলে বিবৃতিতে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। সাংবাদিকদের মাদক ব্যবসার অর্থের ভাগ পাওয়া নিয়ে তাঁর মন্তব্যও অসাবধানতাবশত করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়। পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনও বিবৃতি দিয়ে তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছে।

গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুরান ঢাকার চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে পুলিশ ক্রসফায়ারে যেতে দ্বিধাবোধ করবে না।’ একই অনুষ্ঠানে পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে ফ্যাসিস্ট এবং নিষ্ক্রিয় থাকলে দুর্বল আখ্যা দেওয়া হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশকে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দেওয়ার ওপরও জোর দেন আইজিপি।

তাঁর বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহল ও মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে সমালোচনা দেখা দেয়। পরে ওই রাতেই পুলিশ সদর দপ্তর ব্যাখ্যা দিয়ে জানায়, আইজিপি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা শাস্তি বোঝাতে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ বোঝাতে তিনি শব্দটি রূপক অর্থে ব্যবহার করেছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

তবে আইজিপি পদে পরিবর্তনের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ঘোষণা আসেনি।


Share: