বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর। লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, ইয়োহান ক্রুইফ, মিশেল প্লাতিনি, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, ইউসেবিও, জিনেদিন জিদান ও রোনালদো নাজারিওর মতো কিংবদন্তিদের হাতে উঠেছে সোনালি ট্রফিটি। তবে ফুটবল ইতিহাসের দুই মহাতারকা পেলে ও দিয়েগো ম্যারাডোনার হাতে কখনো ওঠেনি এই পুরস্কার। প্রশ্ন হলো, বিশ্ব ফুটবলে অসামান্য অবদান রাখা এই দুই কিংবদন্তি কেন ব্যালন ডি’অর জিততে পারেননি?
এর উত্তর লুকিয়ে আছে পুরস্কারটির যোগ্যতা নির্ধারণের পুরোনো নিয়মে। ১৯৫৬ সালে ব্যালন ডি’অর চালুর পর দীর্ঘদিন কেবল ইউরোপীয় ফুটবলারদেরই এই পুরস্কারের জন্য বিবেচনা করা হতো। ফলে ইউরোপের বাইরে জন্ম নেওয়া পেলে ও ম্যারাডোনার মতো তারকারা তাঁদের সেরা সময়েও এই পুরস্কারের জন্য যোগ্য ছিলেন না।
১৯৯৫ সালে নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়। এরপর ইউরোপীয় ক্লাবে খেলা যেকোনো দেশের ফুটবলার ব্যালন ডি’অরের জন্য বিবেচিত হওয়ার সুযোগ পান। সেই বছরই প্রথম নন-ইউরোপীয় খেলোয়াড় হিসেবে পুরস্কারটি জেতেন এসি মিলানের লাইবেরীয় তারকা জর্জ উইয়াহ। পরবর্তী সময়ে লিওনেল মেসি, ব্রাজিলের রোনালদো, রোনালদিনহো, রিভালদো ও কাকার মতো তারকারাও এই পুরস্কার জেতেন।
২০০৭ সালে নিয়ম আরও বিস্তৃত করা হয়। এরপর বিশ্বের যেকোনো দেশের ক্লাবে খেলা ফুটবলার ব্যালন ডি’অরের জন্য যোগ্য বিবেচিত হওয়ার সুযোগ পান। এই পরিবর্তনের ফলে ইউরোপের বাইরের ক্লাবে খেললেও পুরস্কার জয়ের পথ খুলে যায়। ২০২৩ সালে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলার সময় মেসির ব্যালন ডি’অর জয় এই নিয়মের গুরুত্ব সামনে আনে।
ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে ১৯৭৭ সালে নিউইয়র্ক কসমসের হয়ে খেলার মধ্য দিয়ে পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টানেন। অথচ নন-ইউরোপীয় খেলোয়াড়দের জন্য ব্যালন ডি’অরের দরজা খোলে তার প্রায় দুই দশক পর। ফলে ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে পুরস্কারটি জেতার সুযোগই পাননি তিনি।
অন্যদিকে, দিয়েগো ম্যারাডোনা বার্সেলোনা, নাপোলি ও সেভিয়ার হয়ে দীর্ঘ সময় ইউরোপীয় ফুটবলে খেলেছেন। তবে তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী আর্জেন্টাইন এই তারকাও পুরস্কারটির জন্য যোগ্য ছিলেন না। ১৯৯১ সালে নিষিদ্ধ মাদক গ্রহণের পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ার পর ১৫ মাসের নিষেধাজ্ঞায় পড়েন তিনি। পরে ১৯৯৩ সালে আর্জেন্টিনায় ফিরে যান ম্যারাডোনা।
ফলে পেলে ও ম্যারাডোনার ব্যালন ডি’অর না জেতার বিষয়টি তাঁদের ফুটবলীয় দক্ষতা বা অর্জনের ঘাটতির কারণে নয়; বরং পুরস্কারটির তৎকালীন যোগ্যতার নিয়মই ছিল প্রধান বাধা। নিয়ম পরে বদলালেও তত দিনে তাঁদের খেলোয়াড়ি জীবনের সেরা সময় পেরিয়ে গেছে। তাই ব্যালন ডি’অর না জিতলেও ফুটবল ইতিহাসে তাঁদের কিংবদন্তি মর্যাদা অমলিন।