দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হতে পারেনি তাহমিনা আক্তার মৌমির। অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন তিনি। সিলেট শিক্ষা বোর্ডে যখন পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে, তখন মৌমির এই সাফল্য নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে।
চলতি বছর সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ২০৪ জন শিক্ষার্থী। গত বছর পাসের হার ছিল ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ হাজার ৬০২ জন। গত ২০ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০০৬ সালের পর এবারই সিলেট বোর্ডে পাসের হার সর্বনিম্ন।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেও উজ্জ্বল ফল করেছেন মৌমি। তিনি মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর গ্রামের আব্দুল আহাদ ও আমিনা আক্তার পুষ্প দম্পতির মেয়ে। তিনি সিলেট সরকারি মদন মোহন কলেজের শিক্ষার্থী।
মৌমি সিলেটে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করা গ্রিন ডিজঅ্যাবলড ফাউন্ডেশনের (জিডিএফ) আবাসিক শিক্ষার্থী। ছোটবেলা থেকেই প্রতিষ্ঠানটিতে থেকে পড়াশোনা করছেন তিনি।
জিডিএফের নির্বাহী পরিচালক বায়েজিদ আহমদ খান বলেন, মৌমি প্রথম শ্রেণি থেকেই তাঁদের প্রতিষ্ঠানের আবাসিক শিক্ষার্থী। তাঁর এমন সাফল্যে তাঁরা আনন্দিত ও গর্বিত। মৌমির এই অর্জন প্রতিষ্ঠানটির জন্যও বড় প্রাপ্তি বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, এইচএসসি পরীক্ষায় মৌমির শ্রুতিলেখক হিসেবে সহযোগিতা করেছেন পল্লব রায়। তিনি হাজী আব্দুস সাত্তার উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি উত্তীর্ণ হয়েছেন।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা জয় করে মৌমির এই অর্জন তাঁর পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।