Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / রংপুর বিভাগ / সারাদেশ / রংপুর / ফোনে না পেয়ে বাসায় এসে পেলেন বোনসহ চারজনের লাশ - Chief TV

ফোনে না পেয়ে বাসায় এসে পেলেন বোনসহ চারজনের লাশ - Chief TV

2026-08-23  ডেস্ক রিপোর্ট  38 views
ফোনে না পেয়ে বাসায় এসে পেলেন বোনসহ চারজনের লাশ - Chief TV

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে তাদের হত্যার পর মরদেহ ফেলে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী এবং স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী।

স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর শনিবার রাতে নগরীর কামালকাছনার মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর বাসায় গিয়ে চারজনের মরদেহ পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) মধ্যরাতের পর থেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বজনদের যোগাযোগ ছিল না বলে জানা গেছে।

নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তীর বোন পূজা চক্রবর্তী জানান, শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে তিনি বোনের মোবাইল ফোনে কল করেন। ফোন বন্ধ পাওয়ার পর একে একে ভগ্নিপতি গণপতি, ভাগনি আগামী এবং ভাগনে প্রীয়মের ফোনেও কল করেন। কিন্তু সবার ফোনই বন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি মাছুয়াপাড়ার বাসায় যান।

পূজা জানান, বাসায় গিয়ে কলিং বেল বাজিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় বাসার ভেতরে প্রবেশ করে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হলে একে একে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ ছাদের সিঁড়ির কাছে পাওয়া যায়। ছেলে প্রীয়মের মরদেহ পাওয়া যায় খাটের নিচে। আর গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ ছিল ছাদের এক প্রান্তে।

রংপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী জানান, চারজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে ঘরবাড়ি তছনছ অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ কারণে এটি ডাকাতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসায় প্রবেশে সহায়তা করেন। পরে গোয়েন্দা পুলিশ, সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন দল ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করে।

নিহতদের স্বজনরা জানান, গণপতি চক্রবর্তী প্রায় এক বছর আগে শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর নেন। তিনি অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। সম্প্রতি পরিবার নিয়ে মাছুয়াপাড়ার নিজেদের দোতলা বাড়িতে বসবাস শুরু করেছিলেন। বাড়িটির নিচতলার নির্মাণকাজও পুরোপুরি শেষ হয়নি।

ঘটনার পর স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।


Share: