সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বাদশাগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসে ভুয়া খাজনার রশিদ ব্যবহার, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সপ্তাহে মাত্র দুই দিন দলিল রেজিস্ট্রির কার্যক্রম চলা গুরুত্বপূর্ণ এই অফিসটিতে একটি চক্রের মাধ্যমে অনিয়ম-দুর্নীতি চলছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মধ্যনগর ও ধর্মপাশা—দুই উপজেলার মানুষের জন্য বাদশাগঞ্জে একটি মাত্র সাবরেজিস্ট্রি অফিস রয়েছে। প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ও বুধবার সেখানে দলিল রেজিস্ট্রি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া খাজনার রশিদ ব্যবহার করে কিছু দলিল রেজিস্ট্রি করা হচ্ছে। এ ছাড়া সাবরেজিস্ট্রারের আত্মীয়স্বজনের ক্ষেত্রে খাজনার রশিদ ছাড়াই দলিল রেজিস্ট্রির অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দলিলের নকল তুলতে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। দানপত্র ও হেবা দলিলের ক্ষেত্রে সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। উত্তরাধিকারী সনদ দিয়ে সাবদলিল রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত দুই হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন। একইভাবে এসএ রেকর্ডের খাজনা পরিশোধ ও শ্রেণীকরণ ছাড়াই রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে উৎসকর বাবদ প্রতি শতাংশে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, কয়েকজন দলিল লেখককে ঘিরে গড়ে ওঠা একটি দালালচক্র দাতা ও গ্রহীতাদের ভূমি আইনের জটিলতার ভয় দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। খাজনা পরিশোধ থেকে শুরু করে দলিল রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করার দায়িত্ব নেওয়ার নামে তারা মোটা অঙ্কের টাকা নিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। একাধিক ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব অভিযোগ করেন।
এ ছাড়া সাবরেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রমে এসআর পলাশ তালুকদারের প্রভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, দালালচক্রের মাধ্যমে অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবরেজিস্ট্রার পলাশ তালুকদার সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, অভিযোগগুলো মিথ্যা। ভুয়া খাজনার রশিদ যাচাই করার মতো প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি তার কাছে নেই। অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সুনামগঞ্জ জেলা সাবরেজিস্ট্রার বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, ভূমি নীতিমালার বাইরে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা বলছেন, সাবরেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।