নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। গত বুধবারের প্রলয়ঙ্করী দুর্যোগের পর এখনও প্রায় ১ হাজার ৩০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে শত শত পর্যটক রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধার অভিযান চালাতে ব্যাপক বেগ পেতে হচ্ছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নেপালের দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হিমবাহধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্গম অঞ্চলের বেশ কিছু এলাকায় এখনও উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে না পারায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আকস্মিক বন্যার পর ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক পর্যটককে উদ্ধার করেছে নেপাল কর্তৃপক্ষ। দেশটির পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ১১৭ পর্যটকের মধ্যে ৮৫ জন ভারতীয়, ১৬ জন চীনা, ৯ জন দক্ষিণ কোরীয়, দুজন ইতালীয় এবং দুজন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন।
নেপাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে এরই মধ্যে বহু মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের রাজধানী কাঠমান্ডুর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে পাহাড়ি এলাকার সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।
দুর্যোগে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি নুয়াকোট জেলার ছবি ও ভিডিওতে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা গেছে। কাদামাটি ও ধ্বংসাবশেষে ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। অনেক গাছের সঙ্গে ভেসে আসা বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষও আটকে থাকতে দেখা গেছে।
এদিকে তিব্বতের শিগাতসে প্রশাসনিক এলাকায় নদীর তীরঘেঁষা দুই লেনের একটি সড়কের বড় অংশ ভূমিধসে মাটির নিচে চাপা পড়েছে। আকাশ থেকে তোলা স্যাটেলাইট ছবিতেও নেপাল-চীন সীমান্তে ভূমিধসে একটি বিশাল অস্থায়ী হ্রদ তৈরির চিত্র ধরা পড়েছে। সাময়িকভাবে তৈরি হওয়া এই প্রাকৃতিক বাঁধ যেকোনো সময় ভেঙে গিয়ে নিম্নাঞ্চলে নতুন করে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।