নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে চাড়ালকাটা নদীর চর কেটে অবৈধভাবে বালু বিক্রি বন্ধে অভিযানে গিয়ে ভয়ভীতি ও বাধার মুখে পড়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তনিমা জামান তন্বী। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল গফুর। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে বাহাগিলী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন বাহাগিলী ইউনিয়নের উত্তর বাহাগিলী এলাকার জাহেদুল ইসলাম (৫৫), তার ছেলে স্বপন ইসলাম (৩০), নুরুল ইসলামের ছেলে পারভেজ ইসলাম (৪০), বুবদ্দি মামুদের ছেলে আরব আলী (৪৫) এবং ফজেদুল ইসলামের ছেলে সুমন ইসলাম (৩৫)।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে চাড়ালকাটা নদীর চর কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে আসছিলেন। গত বুধবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তনিমা জামান তন্বীর নেতৃত্বে বাহাগিলী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা সেখানে অভিযান চালান।
অভিযানের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বালু উত্তোলন ও বিক্রির বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাইলে অভিযুক্তরা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে মারমুখী আচরণ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে অভিযানকারীরা বালু বহনকারী একটি ট্রাক্টর আটক করেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তনিমা জামান তন্বী বলেন, নদীর চর কেটে বালু বিক্রির কারণে নদীভাঙন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অবৈধভাবে বালু বিক্রি বন্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে তাদের বাধা দেওয়া, মারমুখী আচরণ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল গফুর বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।