মোংলা নদীর ওপর দশম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন নৌপরিবহন, সড়ক ও সেতু এবং রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। পাশাপাশি মোংলা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পর্যায়ক্রমে প্রায় ৮৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে মোংলা বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত এক সংবর্ধনা সভায় মন্ত্রী জানান, মোংলা বন্দরের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মোংলা নদীর ওপর প্রস্তাবিত দশম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সেতুটি নির্মিত হলে মোংলা বন্দরের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় কমার ফলে বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মোংলাকে পরিকল্পিত শিল্প ও বাণিজ্যিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
এদিকে মোংলা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রমকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শেখ রবিউল আলম জানান, আগামী অক্টোবর থেকে অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হবে। এতে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শেষ হলে আরও প্রায় ৬০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে প্রায় ৮৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে মোংলা অঞ্চলের বেকারত্ব নিরসন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা। সংবর্ধনা সভায় স্থানীয় বিএনপি নেতারাও অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক অঞ্চলের সুফল দ্রুত স্থানীয় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে যোগাযোগ ও শিল্প অবকাঠামোর এই উন্নয়ন বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়নের পাশাপাশি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।