নওগাঁর মান্দা উপজেলার দেলুয়াবাড়ী বাজারের এক সাইকেল মেকারের বিরুদ্ধে শিশুদের সলিউশন আঠা দিয়ে ‘ড্যান্ডি’ নেশায় আসক্ত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ওই ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে অন্তত চার শিশু নেশায় জড়িয়ে পড়েছে। নেশায় আসক্ত হওয়ার পর তাদের লেখাপড়াও বন্ধ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে মান্দা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ড্যান্ডি নেশায় আসক্ত শিশু ফয়সাল হোসেনের বাবা সোহেল রানা। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলে মাঝেমধ্যে সাইকেল মেরামতের জন্য দেলুয়াবাড়ী বাজারের সাইকেল মেকার আব্দুল জলিলের দোকানে যেত। এই সুযোগে পলিথিনে সলিউশন আঠা দিয়ে ফয়সালকে নেশায় আসক্ত করা হয়। একপর্যায়ে বাসা থেকে কাঁসার থালা, বাটি ও গ্লাস এনে দেওয়ার বিনিময়ে তাকে সলিউশন আঠা দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পরিবারের দাবি, নেশায় আসক্ত হওয়ার পর ফয়সাল পরিবারের অগোচরে ডেকোরেটর ব্যবসার প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের বৈদ্যুতিক তার নামমাত্র দামে বিক্রি করে দেয়। সম্প্রতি সাড়ে সাত হাজার টাকা মূল্যের একটি সাইকেলও মাত্র ৯০০ টাকায় আব্দুল জলিলের কাছে বিক্রি করেছে বলে দাবি করা হয়। বিষয়টি জানার পর পরিবারের সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করলে ফয়সাল সাইকেলটি ৯০০ টাকায় বিক্রির কথা স্বীকার করে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সোহেল রানা আরও অভিযোগ করেন, গত বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে আব্দুল জলিলের কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এ সময় উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। ওই ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিতে আব্দুল জলিল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সোহেল রানা ও তাঁর কয়েকজন স্বজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কহীন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে আরও তিন শিশু—জিহাদ, রাসেল ও তানভিরের নাম উঠে এসেছে, যারা আব্দুল জলিলের সংস্পর্শে এসে ড্যান্ডির নেশায় আসক্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। নেশায় জড়িয়ে পড়ায় তাদেরও লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে বলে দাবি পরিবারের।
এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। সংবাদ সম্মেলনে দেলুয়াবাড়ী বাজারের ব্যবসায়ী লালচাঁদ শেখ, আনোয়ার হোসেন ও লিটন হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
তবে শিশুদের নেশায় আসক্ত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সাইকেল মেকার আব্দুল জলিল। তাঁর দাবি, মারধর ও চাঁদাবাজির বিষয়টি ভিন্নখাতে নিতে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।