নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিশা ইউনিয়নের সমাসপাড়া এলাকায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে গিয়ে মোবাইল কোর্টের সরকারি গাড়ি আটকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বর-কনেসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) উপজেলার সমাসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সমাসপাড়া গ্রামের মো. ইউসুফ আলীর ছেলে মো. আল আমিনের সঙ্গে খালপাড়া গ্রামের জুয়েলের ১৩ বছর বয়সী মেয়ে মোছা. জেরিনের বিয়ের আয়োজন করা হয়। জেরিন সমাসপাড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী।
শুক্রবার রাতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর শনিবার ছেলের বাড়িতে বৌভাতের আয়োজন করা হয়। পরে বাল্যবিবাহের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় বরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার পথে স্থানীয় ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল সরকারি গাড়ি আটকে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় পুলিশ ও সরকারি কর্মচারীদের ওপর হামলার চেষ্টারও অভিযোগ ওঠে। পরে আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিষয়টি জানতে পেরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠান। এরপর বর আল আমিন, কনে জেরিনসহ তিনজনকে আটক করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বাল্যবিবাহ সংঘটন ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মুন্নাফ, রাব্বি, ইউনুস, সজলসহ আরও ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বাল্যবিবাহের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। আসামিকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় একদল লোক সরকারি গাড়ি আটকে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর।
তিনি আরও বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের পাশাপাশি সরকারি কাজে বাধা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিশুদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় বাল্যবিবাহ বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।