সুনামগঞ্জে সাত বছরের শিশু জাকিয়া আক্তার নিহাকে সুরমা নদীতে ফেলে হত্যার অভিযোগে তার সৎ মা আছিয়া বেগমকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আছিয়া বেগম সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের গোদারগাঁও গ্রামের মো. তাজ উদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রী। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি শিশুটিকে নদীতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সুনামগঞ্জ শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই অভিজিৎ ভৌমিক বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আছিয়া বেগম জানিয়েছেন, ‘মাথায় শয়তান ভর করায়’ তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তাজ উদ্দিন পেশায় রাজমিস্ত্রি। প্রথম স্ত্রীর ঘরে তার পাঁচ সন্তান রয়েছে। তাদের মধ্যে জাকিয়া আক্তার নিহা ছিল চতুর্থ। প্রায় চার বছর আগে প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি সুনামগঞ্জ শহরের হাছননগরের আছিয়া বেগমকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন। আছিয়া বেগমের কোনো সন্তান নেই। বিয়ের পর থেকেই প্রথম স্ত্রীর সন্তানদের নিয়ে পরিবারের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধ চলছিল বলে জানা গেছে।
গত ১৭ আগস্ট সকালে আছিয়া বেগম নিহাকে নিয়ে বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে সুরমা নদীতে গোসল করতে যেতে চান। তাজ উদ্দিন তাকে নদীতে যেতে নিষেধ করলেও তিনি শিশুটিকে নিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে নিহাকে আর বাড়িতে পাওয়া না গেলে তাজ উদ্দিন স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করেন। তবে তিনি সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি। ওই দিনই তাজ উদ্দিন সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
পরদিন পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল সুরমা নদীতে তল্লাশি চালালেও শিশুটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। ১৯ আগস্ট সকালে সুরমা নদীর রাজারগাঁও গ্রামের পাশ থেকে নিহার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল।
এরপর জিজ্ঞাসাবাদে আছিয়া বেগম শিশুটিকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানায়। পরে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এ ঘটনায় তাজ উদ্দিন বাদী হয়ে স্ত্রী আছিয়া বেগমের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
সুনামগঞ্জ শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই অভিজিৎ ভৌমিক জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আছিয়া বেগম হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শুক্রবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।